মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ’র একগুচ্ছ কবিতা

প্রকাশিত: ৯:১৩ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২৭, ২০২৪

মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ’র একগুচ্ছ কবিতা

(এক) ধানশীষ স্বপ্ন

ভারী ভারী আশাগুলোর শীষ–
যেন অনাগত ভবিষ্যত,
ক্লান্তিহীন আশাবাদে ভরপুর
নিরুদ্বেগ ডানা মেলে
সোনালী দিনের চিল।

নেড়েচেড়ে খাইখরচের খড়গুলো
ভালোবাসার গনগনে রোদে শুকাই,
আগাম কেটে নেয়া শীষে জ্বলজ্বলে সুখ,
চুম্বনরস মেখে দিলাম তাই
নিরন্ন দুপুরের হা-ভাতের মুখে।

সমুদ্রে অবারিত জোৎস্নাটুকু মমতায়
আলোকিত স্বপ্নের দেখাদেখি,
মুখোমুখি মুখরতার কবিতার বেলাভূমিতে
দাঁড় করিয়েছে।
কষ্টের মহীসোপানে আছি দাঁড়িয়ে
খুঁজে ফিরি ফলবান কবিতার অনাগত শৈবাল ,
সেইসব সোনালী প্রত্যাশার নীল জল,
শুদ্ধতম আয়নায়
স্বদেশের মুখ।

(দুই) শ্বাপদসংকুল সড়কপথে

ধাবমান মনোট্রেন
নব-নির্বাচিত কবিতার অঞ্জলি দিতে পারার
অশেষ আহ্বানে তৃপ্ত চোখে
আলোঘর চমকিত করেছে
বৈতালিক সম্বোধনে

ধরে রাখার নিগূঢ়তম
সুখের পাপড়িতে
সাজিয়েছি আভরণ
সারাক্ষণ অস্থির চলাচল মাঠ থেকে মাঠে
বিনম্র ঝংকারে

তন্ময় দীপশিখা থেকে শুরু হলো
বর্ণিল লেখাজোখার অনন্য পাঠশালা
মুখস্থ করছি সবাই পৈতৃক সূত্রে পাওয়া
বেদনার নামতাবলী –
যেখানে আলুথালু রোদে তেতে ওঠে
বিব্রত যৌবন,
সেখানে ক্যামন একটা পোড় খায়
ক্যামন একটা বাঁকে
ক্যামন আরো একটা বাঁক।

(তিন) জলজ হৃদয়ে সুপ্ততাপ

জমাট মোহে
প্রতিদিনই নরম সরম একটা
আর্তনাদ,
অবহেলার নর্দমায় ডুবে থাকি,
যেন একটা
মেয়াদোত্তীর্ণ টেবলেট,
কিংবা
কাজ শেষে ছুড়ে মারা
টেবিল টিস্যু।

ছুটন্ত বাসের বিধ্বস্ত জানালায়
ফ্যাকাসে মেঘের পালকি,
ফুটপাত থেকে বাড়ানো
নিরন্তর ক্ষুৎকাতর হাতে
আলো ভরা রজনীগন্ধার গুচ্ছ –
অশান্ত লোকালয়ের পোড়ানো জীবন থেকে
উঠে আসে পলিথিন ব্যাগ, এবং
আরো কিছু বিরামহীন
চাওয়া পাওয়ার কর্কশ মিছিল।

(চার) প্রদায়ক শক্তির বিরচন

ঝাপসা মাঠের ওপর ঝুলছে
উদ্দেশ্যহীন জোছনা,
তারা ভরা বিষন্নতা এবং
দীর্ঘশ্বাস গেঁথে
বেলা গেল তার।

নিরংকুশ আলোকে,আবাহনে
আবারো মাঠের শিশিরে ধুয়েছে রক্তিম পা’
হেমন্ত কিশোরী জড়িয়ে আছে তার পেলব শরীরে কুয়াশার পশমী চাদর,
কঠোরতার কলম পিষে শেষ ঠিকানায়
প্রতিরোধী শ্লোগান সহসা জ্বলে ওঠবার
শক্তি খুঁজে পেয়েছে ভোরের অনবদ্য আঙ্গিনা।

জমায়েতের পুরোভাগ রংহীন মনে হলেও
মাটিতে শব্দ তুলেছে হাতিয়ার,
মাটির ঢেলা ভাঙতে ভাঙতে
ভেঙে ফেলেছে পুরনো দেয়াল।

(পাঁচ) অসহিষ্ণু এক যুগ

গতানুগতিক নিয়মেই
অক্ষরের বাগানে লুটতরাজ
রক্তলোলুপ হাত বাড়িয়েছে
আকাঙ্ক্ষার অসীম উন্মাদনা,
ভাষাহীন মুখে নিস্তব্ধতা
নিস্ফল রোদন।

উদ্ধৃতি যত নির্মাণের
বিবৃতি যত উষ্ণতার
সংলাপ যত শুভ্রতার

জাগতিক ইটপাটকেল
মাথার ওপরের আকাশটাকে
নিশ্চিহ্ন করেছে,
আণবিক ধূলোমাখা
অন্দরে কলুষ ঠেলে দিলো
বৈরিতার মিসাইল,
মেঘের বল্কল থেকে
উঠিয়ে দিয়েছে ক্রমেই
শ্লীলতার প্রচ্ছন্ন আবেগ।