আলীনগর ইউনিয়নের দুই কৃতি সন্তানের অবিস্মরণীয় স্মৃতি স্বরণে ভার্চুয়াল শোকসভা

প্রকাশিত: ১০:০০ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ১৫, ২০২০

আলীনগর ইউনিয়নের দুই কৃতি সন্তানের  অবিস্মরণীয় স্মৃতি স্বরণে ভার্চুয়াল শোকসভা

আলীনগর ইউনিয়নের দুই কৃতি সন্তানের
অবিস্মরণীয় স্মৃতি স্বরণে ভার্চুয়াল শোকসভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজনঃhttps://us02web.zoom.us/j/89857639730?pwd=OHVjUUU0N1Zid1JpWWFZQVVXWDkwQT09#success

Meeting ID: 898 5763 9730
Passcode :123456
—————————————————————————–
এজিঅাইসিও চেয়ারম্যান এম এ হুসাইন এর অনুরাগ অনুভূতির প্রতিক্রিয়া নিয়ে সংবাদ প্রতিবেদনঃ
—————————————————————————–
বিয়ানীবাজার উপজেলার অালীনগর ইউনিয়নের
দুই জন কৃতি সন্তান ডি এম হাই স্কুলের সাবেক চেয়ারম্যান ও সাবেক ভাইস চেয়ারম্যানের কর্মময় জীবনের অবিস্মরণীয় স্মৃতি স্বরণে —-
সমগ্র বিশ্বে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা অসংখ্য অগণিত ডি এম স্কুলের সাবেক শিক্ষক অভিভাবক এবং প্রাক্তন ছাত্র ছাত্রী গনের যৌথ উদ্যোগে লন্ডন থেকে একটি
ভার্চুয়াল দোয়া মাহফিল ও অালোচনা
সভার অায়োজনকরা হয়েছে।
উক্ত দোয়া মাহফিল ও অালোচনা সভাতে দেশ বিদেশের সকল কে দল মত জাতি ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে ঐক্য বদ্ধ ভাবে ইন্টারনেট সংযোগ মাধ্যমে যোগ দান করার জন্য অান্তর্জাতিক মানবতাবাদী সংস্থা এজিঅাইসিও এর পক্ষ হতে সংগঠনের চেয়ারম্যান এম এ হুসাইন বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছেন।
সাংবাদিক বৃন্দ এ শোকসভা নিয়ে তাঁর হৃদয়ের অনুভূতি ও প্রতিক্রিয়া জানতে এজিঅাইসিও চেয়ারম্যান এর সাথে টেলিযোগাযোগ করেন। তখন
কান্না জড়িত কন্ঠে তিনি বলেন – এই দুই জন শ্রদ্ধেয় বরেণ্য ব্যক্তিত্ব ছিলেন অালীনগর ইউনিয়নের কৃতি সন্তান। অামি তাদের অবিস্মরণীয় স্মৃতির প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা নিবেদন করি।
মুলত দুই জন ই অামাকে বড়োই স্নেহ করতেন। তাদের চমৎকার নীতি অাদর্শ অনুসরণ করে অামাদের জীবনের পথ চলা।
বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ ঐতিহ্য বাহী ডি এম স্কুলের সাবেক চেয়ারম্যান মরহুম ফলিক মিয়া মুলত
দেশ ও জাতির সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করে গেছেন।

তিনি বলেন অামার শ্রদ্ধা ভাজন দাদা
ডি এম স্কুলের অন্যতম জমি দাতা মরহুম হাজী
ইছরাব অালী সাহেব। তিনির অাদর্শ কে বুকে লালন করে অামার শ্রদ্ধা ভাজন চাচা মরহুম এম এ সামাদ
ডি এম হাই স্কুলের অসংখ্য অগণিত ছাত্র ছাত্রী এবং তাদের অভিভাবক গনের অফুরন্ত অপরিসীম ভালবাসা নিয়ে এই স্কুলের খেদমত করার সুযোগ বারবার পেয়েছেন এবং বারবার
বিপুল ভোটে স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সদস্য এবং পরে
ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি।
এই স্কুলের সার্বিক উন্নয়ন সাধনে তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করে গেছেন। তার সেই অবদান অবিস্মরণীয়।
সেই পরিবারের পূর্ব পুরুষ গনের ঐতিহ্য নিয়ে সাংবাদিক বৃন্দ জানতে ইচ্ছে পোষণ করেন। এবং
প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে এম এ হুসাইন বলেন এজিঅাইসিও পরিবার মুলত দেশ জাতির জন্য সামরিক ডিফেন্স বিভাগে চাকুরী করেছেন সেই বৃটিশ আমল পাকিস্তান অামল হতে।
দেশ ও জাতীর চরম সংন্কট মূহুর্তে এই পরিবার সব সময় পাশে দাড়িয়ে অার্ত মানবতার সেবায় কাজ করছে। এখন করে যাচ্ছে। অাগামী দিন গুলো তে করে যাবে ইনশাআল্লাহ।
এ পরিবার সব সময় অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে
অবহেলিত নিপিড়ীত নির্যাতিত জনগণের পাশে
দাড়িয়েছে।
স্বাধীকার অর্জনের জন্য সমাজ থেকে সাম্প্রদায়িক বৈষম্য দুর করে শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষা করে একটি শক্তিশালী সুন্দর সমাজ বিনির্মাণ করতে নিরলস ভাবে কাজ করছে এই পরিবার। নিপীড়ন নির্যাতন সামাজিক সামপ্রদায়িক উগ্রতা শ্রেণী বৈষম্য মুক্ত সমাজ বিনির্মাণ করতে এই পরিবার লড়াই করেছে অার তার খেসারত হিসেবে ১৯৭৫ সালে স্বাধীনতা বিরোধী রাজাকার দের হাতে শহীদ হতে হয়েছে
অামার শ্রদ্ধা ভাজন বড় চাচা সাবেক ইপিঅার হাবিলদার এ সুবহান।
স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় এই পরিবার কি ভূমিকা পালন করছে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে
তিনি অাবেগ জড়িত কন্ঠে বলেন…
মনে পড়ে সেই ১৯৭১
সালের ভয়ংকর দিন গুলির কথা!!
অামি দেখেছি……
১৯৭১ সালের স্বাধীনতা সংগ্রামে অামার পরিবার অসামান্য অবদান রেখেছে। সেই পরিবারের একজন সন্তান হিসেবে অামি নিজেকে গর্বিত মনে করি।
অামার শ্রদ্ধা ভাজন দুই চাচা সাবেক ইপিঅার হাবিলদার পাকিস্তান সেনাবাহিনী থেকে মুক্তি যুদ্ধের সর্বাধিনায়ক বঙ্গবীর জেনারেল ওসমানী সাহেবের নেতৃত্বে মুক্তি যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেন।
সেই সময় অামার পিতা মরহুম হাজী এম গনী মিয়া সদ্য পুলিশ প্রশাসন থেকে অবসরে এসে এলাকা বাসীর মনোনয়ন নিয়ে
অালীনগর ইউনিয়নের মাটি ও মানুষের সেবক হিসেবে বিপুল ভোটে ইউপি সদস্য নির্বাচিত হন। দেশ ও জাতির সেবায় নিজেকে সম্পৃক্ত করেন।
তখন শুরু হয় ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা সংগ্রাম!!
অামার মনে পড়ে!! অালীনগর ইউনিয়নে তখন এক শ্রেণীর অসাধু লোক রাজাকার অালবদর বাহিনীতে যোগদান করে। শান্তি কমিটি তে যোগদান করে। তারা সবাই সেই সময় দিন রাত্রি পাক হানাদার বাহিনীর প্রভাব খাটিয়ে স্বাধীনতা কামী
অালীনগর ইউনিয়নের নিরীহ মানুষের বাড়ি ঘর ডাকাতি করে। শুধু তাই নয় পাক হানাদার বাহিনী কে তারা মুক্তি যুদ্বা? স্বাধীনতার পক্ষে?
যারা কাজ করছে এই তথ্য অনুসন্ধান দিয়ে এলাকায় অশান্তি সৃষ্টি করেছে তার পাশাপাশি
জুলুম নির্যাতন নারী ধর্ষণের অভয়ারণ্যে পরিনত করে অালীনগর ইউনিয়ন কে।
অার তখন এই নৈরাজ্য সৃষ্টি করতে তাদের পথে
বাধা হয়ে দাড়িয়ে ছিলেন অালীনগর ইউনিয়নের শান্তি প্রিয় ন্যায় পরায়ন সত সাহসী দেশপ্রেমিক গন
তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন অামার পিতা এবং শহীদ বড় চাচা সাবেক ইপিঅার হাবিলদার অাব্দুস সুবহান।
এমপি অাব্দুর রহিম এডভোকেট
এবং মরহুম হারুন রশীদ সাহেব এবং ততকালীন ইউপি চেয়ারম্যান মরহুম চনু মিয়া গং এবং
অামার পিতা ও অামার শ্রদ্ধা ভাজন চাচা কে
পাক হানাদার বাহিনী দিয়ে হত্যা করতে গভীর ষড়যন্ত্র করে এই রাজাকার অালবদর গোষ্ঠী।
মনে পড়ে তখন তারা রাজাকার বাহিনী দিয়ে নয়া বাজারে অামাদের দোকান ডাকাতি করিয়েছিল।
অামাদের কে হত্যা করবার জন্য বাড়িতে অাক্রমণ করে
তারা। সেই অন্যায় জুলুম নির্যাতনের বিরুদ্ধে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করতে গিয়ে ১৯৭১ সালে
অাত্ন রক্ষার জন্য বান্কারে রাত্রি যাপন করতে হয়েছে
অামি সহ গুটা পরিবার কে।
মা ভাই বোন অাত্নীয় সজন কে নিয়ে সুরমা নদীর বড় নৌকায় অাত্নগোপন করে রাত কাটাতে হয়েছে।
সেই ভয়ংকর মূহুর্তের কথা কোন দিন অামি
ভুলতে পারবো না। অনেক কথা বলতে চাই
সেই সময় রাজাকার অালবদর গোষ্ঠীর হুমকি ধামকি উপেক্ষা করে নিজের জীবন কে মৃত্যুর মুখে রেখে পরিবার পরিজন কে নজীর বিহীন সংকটের মধ্যে ফেলে অালীনগর ইউনিয়নের মাটি ও মানুষের জন্য
ইজ্জতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন অামার পিতা ও চাচা শহীদ এ সুবহান।
পাক হানাদার বাহিনীর একজন ড্রাইভার পাক হানাদার বাহিনী কে দিয়ে ডাকাতি করে ডাকাতির মালা মাল তার বাড়িতে নিয়ে অাসেন। অভিযোগ পেয়ে অামার বড় চাচা এলাকা বাসী কে সাথে নিয়ে সেই অসাধু লোকের বাড়ি ঘেরাও করে সকল মালা মাল ধন
উদ্ধার করেন। এতে সেই রাজাকার ড্রাইভার ক্ষেপে
গিয়ে লজ্জা জনক দুঃখ জনক কলঙ্কের দাগ মুছে ফেলতে অামার পিতা ও চাচা কে হত্যা করবার ষড়যন্ত্রে
লিপ্ত হন। দেশ স্বাধীন হওয়ার পরে এদের পরিনতি নিজের চোখে দেখেছি।
বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে গিয়ে মুক্তি বাহিনী গাছের মধ্যে ঝুলিয়ে নির্যাতন করেছে। হাতে পায়ে বেড়ি দিয়ে
বুট জুতা দিয়ে লাতি মেরে ভেঙ্গে গুড়ো করে দিয়েছে ওদের হাড়। এই দৃশ্য গুলো এখনো চোখের সামনে
ভেসে ওঠে। যতদিন বেঁচে থাকবো ততদিন এই করুন স্মৃতি গুলো মনে পড়বে। মনে পড়ে দাদিমার দিন রাত্রি কান্না কাটির কথা। ছোট চাচা সাবেক ইপিঅার হাবিলদার মোহাম্মদ অালী দিনাজপুর জেলার মধ্যে
মুক্তি যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়েন। তিনির কোন খোঁজ খবর নেই। বেচে অাছেন কি যুদ্ধে শহীদ হয়েছেন তা কেউ
জানেন না। যখন ফাইটার বম্বার বিমান উড়ে এসে
অামাদের বাড়ির উপর দিয়ে ভারত যেতো তখন
দাদিমা অামাদের কে বুকে নিয়ে বাড়ির মধ্যে গোপন
ব্যান্কারে নিয়ে যেতেন। যুদ্ধ বিমান চলে গেলে অামাদের কে নিয়ে বেরিয়ে অাসতেন ব্যান্কার হতে।
তার পরে পুকুরে গলা পানিতে নেমে মহান রাব্বুল আলামীনের দরবারে দোয়া করতেন। সেই ভয়াবহ দিনের কথা মনে হলে এখনো
চোখে নিদ্রা অাসে না। গায়ে শিহরণ জাগায়। অনেক কথা অনেক স্মৃতি বারবার অামাকে অালোড়িত করে।
অামার শ্রদ্ধা ভাজন দুলাভাই সাবেক ইপিঅার হাবিলদার যুদ্বাহত মুক্তি যুদ্বা এবং
টিকড় পাড়ার অামাদের গোষ্ঠীর মধ্যে অন্যতম হলেন সাবেক ইপিঅার হাবিলদার সনদ প্রাপ্ত মুক্তি যুদ্বা মরহুম এম এ মালিক চাচা সেই মালিক চাচার তিনি সহ চার ভাই। এই চার ভাইয়ের মধ্যে মরহুম সামাদ চাচা ছিলেন সকলের ছোট্ট।
১৯৭১ সালের স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় তরুণ যুবক
সামাদ চাচা ছিলেন ডি এম স্কুলে ছাত্র। তখন
ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের একজন বিপ্লবী তরুণ ছাত্র নেতা হিসেবে তিনি ছাত্র সমাজ কে নিয়ে ঐক্য বদ্ধ অান্দলোন গড়ে তুলতে অসাধারণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। সেই চাচা শেষ জীবনে
দেশ বিদেশের মানুষের অফুরন্ত অপরিসীম ভালবাসায়
সিক্ত হয়ে নিরবে চলেগেলেন সেই না ফেরার দেশে সুদূর অামেরিকা প্রবাসী জীবনে। অাজ দেশ বিদেশের সকলের সমন্বিত উদ্যোগে
সেই দুই কৃতি সন্তান কে স্মরণ করা হচ্ছে এবং তাদের
অবিস্মরণীয় স্মৃতি অবদান কে নিয়ে অালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে দোয়া মাহফিল হচ্ছে। বার বার শুধু একটা কথা মনে হচ্ছে অনেক স্মৃতি মনে পড়ছে। তবে সব না বলা কথা গুলো! নিজের চোখে দেখা ৭১ সালের স্বাধীনতা সংগ্রামের স্মৃতি গুলো নিয়ে একটা বই প্রকাশ করার জন্য অনেক সাংবাদিক লেখক সাহিত্যিক অামাকে অনুরোধ করছেন। যদি মহান রাব্বুল করিম সময় সুযোগ সৃষ্টি করে দেন তবে লিখবো ও অচিরেই তা প্রকাশ করবো ইনশাআল্লাহ।
একটি কথা দিবা লোকের মতো সত্য
“জোর করে মানুষের ভালো বাসা পাওয়া যায় না।
মানুষের সেবক হওয়া যায় না।
মানুষের অকৃত্রিম ভালো বাসা অর্জন করতে
হলে নিঃস্বার্থ ভাবে কাজ করতে হয়”

“তার বাস্তব প্রমাণ এই দুই কৃতি সন্তান”

এই দৃশ্য অবলোকন করে অামি নিজে
কে গর্বিত মনে করছি।
সুবহানাল্লাহ, এ জন্য অামি দেশ বিদেশের সকলের নিকট চির কৃতজ্ঞ। মহান সৃষ্টিকর্তার কাছে দোয়া করি তিনি যেন অামাদের কে তাঁদের মতো দেশ ও জাতির সেবায় উৎসর্গ করতে সুযোগ দান করেন।
এই কামনায় রইলাম।

আর্কাইভ

June 2024
M T W T F S S
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930