News Head

» মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি জেনারেল ওসমানীর প্রতি কেন এতো বৈষম্য – এম এ হোসেইন ইউকে

প্রকাশিত: 08. September. 2026 | Tuesday

মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি জেনারেল ওসমানীর প্রতি সরকারের মূল্যায়ন- এম এ হোসেইন ইউকে

 

নিউজ ডেস্ক :

মহান মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা জেনারেল মুহাম্মদ আতাউল গণি ওসমানী—বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় নাম। তাঁর অবদান ও স্মৃতিকে রাষ্ট্রীয়ভাবে স্মরণীয় করে রাখতে ১৯৮০-এর দশকে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর মধ্যে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সরকারের সময় নেওয়া কিছু পদক্ষেপ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
অবসরকালীন আর্থিক সুবিধা ও পেনশন:
জেনারেল ওসমানীর অবসর জীবনকে কিছুটা স্বস্তিদায়ক করতে তাঁর পেনশন মঞ্জুরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল বলে বিভিন্ন সূত্রে উল্লেখ পাওয়া যায়।
গৃহ নির্মাণ ঋণ মওকুফ:
জেনারেল ওসমানীর নামে থাকা গৃহ নির্মাণ ঋণ মওকুফের উদ্যোগও তৎকালীন সরকারের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছিল বলে উল্লেখ রয়েছে।
মৃত্যুর পর রাষ্ট্রীয় মর্যাদা:
১৯৮৪ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি লন্ডনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জেনারেল ওসমানী মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর মরদেহ বাংলাদেশে এনে সিলেটে পূর্ণ সামরিক মর্যাদায় দাফন করা হয়। ওসমানী জাদুঘরের তথ্যেও তাঁর মৃত্যুর তারিখ এবং সিলেটে সমাহিত হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে। �
osmanimuseum.org.bd
সিলেট এম.এ.জি. ওসমানী মেডিকেল কলেজ:
জেনারেল ওসমানীর স্মৃতিকে সম্মান জানিয়ে ১৯৮৬ সালে তৎকালীন সিলেট মেডিকেল কলেজের নাম পরিবর্তন করে সিলেট এম.এ.জি. ওসমানী মেডিকেল কলেজ করা হয়। কলেজের নিজস্ব ইতিহাস এবং সরকারি নথি—উভয়েই বিষয়টি নিশ্চিত করে। �
SOMC +1
ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর:
সিলেটের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরটিও জেনারেল ওসমানীর নামে পরিচিত হয়। ওসমানী জাদুঘরের সরকারি ওয়েবসাইটে সিলেটের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তাঁর স্মৃতি সংরক্ষণের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। �
osmanimuseum.org.bd
ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তন:
ঢাকার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনও তাঁর নাম ও স্মৃতির সঙ্গে যুক্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় স্থাপনা। এর ভিত্তিপ্রস্তর ১৯৮৫ সালে স্থাপিত হয় এবং ১৯৮৭ সালের ৪ মার্চ রাষ্ট্রপতি এরশাদ এটি উদ্বোধন করেন—এমন তথ্যও পাওয়া যায়। �
Commonwealth Walkway
ওসমানী জাদুঘর:
সিলেটে জেনারেল ওসমানীর পৈতৃক বাড়ি ‘নূর মঞ্জিল’-এ ওসমানী জাদুঘর প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তাঁর জীবন, মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্ব ও ঐতিহাসিক অবদান ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার ব্যবস্থা করা হয়েছে। �
osmanimuseum.org.bd
ইতিহাসের এই অধ্যায়টি নতুন করে আলোচনার দাবি রাখে
রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতেই পারে। কিন্তু মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি জেনারেল এম.এ.জি. ওসমানীর জাতীয় অবদানকে দলীয় রাজনীতির ঊর্ধ্বে রেখে মূল্যায়ন করা উচিত। তাঁর নামে দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোর নামকরণ এবং তাঁর স্মৃতি সংরক্ষণের উদ্যোগ বাংলাদেশের ইতিহাসেরই অংশ।
জেনারেল ওসমানী শুধু সিলেটের গর্ব নন—তিনি সমগ্র বাংলাদেশের গর্ব।
— আরাফাত নিউজ ইউকে

[hupso]