News Head

» কে এম আবুতাহের চৌধুরীর বর্ণাঢ্য জীবন কাহিনী

প্রকাশিত: 08. October. 2026 | Thursday

কে এম আবুতাহের চৌধুরীর বর্ণাঢ্য জীবন কাহিনী

 

নিউজ ডেস্ক লন্ডন

কে এম আবুতাহের চৌধুরী ১৯৫৬ সালে মৌলভী বাজার উপজেলার ইটা সিংকাপনের বিখ্যাত সিংকাপনী মৌলানা পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।

তিনি ব্রিটেনের সর্বজন সমাদৃত সাংবাদিক, সমাজসেবী ,কমিউনিটি নেতা । সাংবাদিকতা ও শিক্ষকতা হলো তাঁর পেশাগত জীবন ।তিনি একজন ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার ।

তাঁর পিতা বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলের প্রখ্যাত আলেমেদ্বীন ও বুজুর্গ মরহুম হাফেজ মাওলানা আব্দুল কাদির চৌধুরী (রহঃ) সিংকাপনী।হাজার হাজার ভক্ত-মুরিদানের প্রিয় শায়খ পীর সাহেব সিংকাপনী সিলেট অঞ্চলের ধর্মপ্রাণ মানুষের কাছে শুধু একজন ধর্মপ্রচারক আলেমে দ্বীনই ছিলেন না। তিনি ছিলেন একজন শিক্ষক ,একজন সমাজ সেবক ও যুগের খাঁটি ওলী আল্লাহ । তিনি ছিলেন ইলমে লুদুনী প্রাপ্ত একজন আলেম ।বাংলা ,আরবী ,ফারসী ও উর্দু ভাষায় ছিলেন সুপণ্ডিত ।তিনি পবিত্র কুরআনের তাফসীর সহ শতাধিক কিতাব লিখেছেন ।
তারই সুযোগ্য পুত্র হলেন কালাম মাহমুদ আবু তাহের চৌধুরী ।তিনি পিতা-মাতার কাছে ইসলামের প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণ করেন ।পরে শ‍্যামরার বাজার প্রাইমারী স্কুল থেকে প্রাথমিক শিক্ষা ,কাশিনাথ আলাউদ্দিন উচ্চ বিদ‍্যালয় থেকে মাধ‍্যমিক ,মৌলভীবাজার কলেজ থেকে এইচ এস সি ও সিলেট পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট থেকে ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করেন।লণ্ডনে তিনি টাওয়ার হ‍্যামলেটস কলেজ ও সেন্ট প‍্যাট্রিক কলেজে বিজনেস ম‍্যানেজমেন্টের উপর হাইয়ার ন‍্যাশনেল ডিপ্লোমা লাভ করেন।
কৈশোরে লেখার প্রতি গভীর অনুরাগ যেন ভালোবাসার নিগুড়তায় আবদ্ধ করে ফেলে তাকে ! ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার কে এম আবু তাহের চৌধুরী ইলেকট্রিক আর অটোমোবাইলের ইন্জিনিয়ারিং এর পেশাগত জীবন ছেড়ে যুক্ত হয়ে যান পেশাদার সাংবাদিকতায়।

১৯৮৪ সালে প্রিন্স ফিলিপের আমন্ত্রণে রাউণ্ড টেবিল সম্মেলনে যোগ দিতে যুক্তরাজ‍্যে আসেন । পরিবারের সিদ্ধান্তক্রমে তিনি বৃটেন থেকে যান ।একজন দক্ষ সংগঠক, সাংবাদিক ও লেখক কে এম আবু তাহের চৌধুরী খুব কম সময়েই কমিউনিটির সর্বস্তরের মানুষের নজর কাড়তে সক্ষম হন।সর্বদা পরোপকারী ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন আবু তাহের চৌধুরী তাঁর ব্রিটেন জীবনে পরিবার এবং ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে কমিউনিটির জন্য একজন নিবেদিত প্রাণপুরুষ হিসেবে কাজ করেছেন নিরলসভাবে ।
প্রবাসীদের স্বার্থ সুরক্ষা,বিমানের লন্ডন-সিলেট রোডে ভাড়া বৃদ্ধির প্রতিবাদ,সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানে বন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানে বন্দর হিসেবে পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম চালু, বিমানে বন্দরে প্রবাসী হয়রানি বন্ধ ,প্রবাসীদের জায়গা-জমি দখল মুক্ত করণ, পাওয়ার অব এটর্নি’র জটিলতা দূর, প্রবাসীদের ভোটাধিকার ও ন্যাশনাল আইডি কার্ড প্রদানসহ সকল নৈতিক ও মানবিক দাবিতে সম্মুখ সারিতে প্রবাসীদের কন্ঠস্বর কে এম আবু তাহের চৌধুরী। প্রবাসীদের ভোটাধিকার আন্দোলন ,দ্বৈত নাগরিকত্ব আন্দোলন ,সৈয়দ সুরত মিয়াকে হত‍্যার বিরুদ্ধে আন্দোলন ,মনিকা আলীর ব্রিকলেন নবেলের বিরুদ্ধে আন্দোলন ,সিলেট বিভাগ আন্দোলন ও বর্নবাদ বিরোধী আন্দোলন সহ বিভিন্ন আন্দোলন ও সংগ্রামে তিনি ছিলেন সম্মুখ কাতারে ।


দেশ থেকে প্রবাসে এসে অসহায় দিন যাপন করছেন কিংবা দেশ থেকে ইউকে এসে বাসস্থানের বন্দোবস্ত নেই ,সেখানেও একজন আবু তাহের চৌধুরী আছেন ভরসা আর ভালোবাসার দু হাত মেলে।বিয়ে-সাদি কিংবা পারিবারিক দ্বন্দ্ব-কলহ দূর করতেও একজন আবু তাহেরকেই ছুটতে হয় এখান থেকে সেখানে।
কমিউনিটির অনেক বয়োবৃদ্ধের কাছে তরুণ বয়সে ছিলেন সমস্যা মোকাবেলায় পুত্রের মতো আর এই সময়ে তরুণ প্রজন্মের কাছে বাবাসম গুরুজন ।
পূর্ব লন্ডনের ভ‍্যলেন্স রোড এলাকার যে বাড়িটির সপ্তাহে সাতদিনই দরজা খোলাই থাকে , সেই বাড়িটি কার প্রশ্ন করলে কমিউনিটির কেউ বা তাহের ভাই, কেউ চাচা কিংবা কেউ জানান দিবেন আবু তাহের চৌধুরীর ফ্রি সেবা প্রদান সিটিং রুম। যেখানে ফর্ম পূরণ করা, অনুবাদ করা, হাসপাতাল, ক্লিনিক এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ব্যাখ্যা করা থেকে শুরু করে পারিবারিক বিবাদ, বৈবাহিক, আর্থিক, ব্যবসায়িক, ধর্মীয়, এবং আইনগত এবং স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সমস্যা ইত্যাদির মতো নানা জটিল বিষয়ে পরামর্শ দেয়া হয় বিনিময়হীন ! বছরে এমন সপ্তাহ নেই যার বাসায় কারো না কারো সাময়িক আশ্রয় নিতে দেখা না যায়। কমিউনিটির ৫০ টি’র মতো সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা, পরিচালক ও সচিব হিসেবে নিবেদিত প্রাণ কাজ করেছেন এবং করছেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাঁর বেশির ভাগ পোস্টই হলো কোন এলাকা কিংবা সিটিতে বাংলাদেশের কোনো না কোন এলাকার কেউ সমস্যায় পড়ে আবু তাহের চৌধুরীর সহযোগিতা তখন নিজে কাছে না থাকায় কোনো না কোন মাধ্যমে সহায়তা দেয়ার চেষ্টা করছেন।

নিজের স্বাস্থ্য ঝুঁকি উপেক্ষা করে প্রচন্ড ঠান্ডায় আবু তাহের চৌধুরী অচেনা-অজানা মানুষ জনকে সাহায্য করতে বাস স্টপেজে বসে একাকী সময় দোয়া -দরূদ পড়ে সময় পার করতেও দেখেছেন বন্ধু-পরিচিত জনদের অনেকেই ।
তিনি টাওয়ার হ্যামলেটস কলেজ থেকে ‘টিচিং ইন কমিউনিটি ল্যাঙ্গুয়েজ’ এবং সেন্ট প্যাট্রিক্স কলেজ থেকে বিজনেস ম্যানেজমেন্টে এইচএনডি লেভেল 4-এ সার্টিফিকেট গ্রহণকারী কে এম আবু তাহের চৌধুরী টাওয়ার হ্যামলেটস-এ কমিউনিটি ল্যাঙ্গুয়েজ টিউটর হিসেবে দীর্ঘ ৩২ বছর একটি একটি প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন।
ইঞ্জিনিয়ার থেকে সাংবাদিকতা পেশা বেঁচে নেয়া একজন আবু তাহের চৌধুরীর অবর্তমানে কেউ সম্ভোধন করতে গেলে “সাংবাদিক আবু তাহের চৌধুরী হিসেবে বলতেই সাচ্ছন্দবোধ করেন।


তিনি সাপ্তাহিক লন্ডন বাংলা পত্রিকার সম্পাদক ,সাপ্তাহিক ইউরো বাংলা’র চেয়ারম্যান ও প্রধান সম্পাদক ,বাংলা পোস্ট পত্রিকার প্রধান সম্পাদকের দ্বায়িত্ব পালন করেছেন। ব্রিটেনের স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল এস, ইকরা বাংলা টিভি এবং সিলেট টিভি চ্যানেলের জনপ্রিয় উপস্থাপক ছিলেন। তিনি ইউকে বাংলা প্রেসক্লাব এবং বাংলাদেশ সাংবাদিক সমিতি ইউকে-এর সভাপতি হিসেবেও দ্বায়িত্ব পালন করেছেন। অনলাইন পোর্টাল পত্রিকা Arafatnews uk প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।
কমিউনিটি সেবা ও সাংবাদিকতার স্বীকৃতি স্বরূপ অর্জন করেছেন ব্রিটিশ-বাংলাদেশী ‘হুজ হু অ্যাওয়ার্ড, স্টার ইন দ্য কমিউনিটি, সিলেট রত্ন, টাওয়ার হেমলেট্স কাউন্সিল সিভিক অ্যাওয়ার্ড ও ২০০০ সালে বৃটেনের কালো সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে কমিউনিটি লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড লাভ করেন ।ব্যক্তিগত জীবনে তিনি স্ত্রী , চার পুত্র ও চার কন্যা সন্তানের জনক।
তিনি বৃটেনের স্বতন্ত্র রাজনৈতিক দল এসপায়ার পার্টির চেয়ারম‍্যান ।যে দল থেকে নির্বাচিত হয়েছিলেন নির্বাহী মেয়র লুৎফুর রহমান ও ৩৩জন কাউন্সিলার ।

[hupso]